Latest on ZBC
Home / Gossips / রাহুলের সঙ্গে কিছুক্ষণ

রাহুলের সঙ্গে কিছুক্ষণ

কুসংস্কার, সাফল্য, অনুপ্রেরণা, ক্ষোভ, হবি, প্রেম ও আরো নানান বিষয়ে কথা বললেন রাহুল।

 

১) নতুন কোনও ফিল্ম শুরু করার আগে, বা রিলিজ করার সময়, আপনি কোনও কুসংস্কারে ভোগেন নাকি?

না ফিল্ম রিলিজ নিয়ে আমার কোনও কুসংস্কার নেই, কিন্ত্ত শ্যুটিংয়ের সময়, মানে নতুন কোনও প্রোজেক্টের শ্যুটিং থাকলে, যদি বেরোনোর সময় কোথাও ঠোক্কর খাই বা আটকে যাই, তা হলে ডেফিনিটলি ফিরে এসে এক বার বসে – তার পর বেরোই৷ প্রথম দিন কোনও প্রোজেক্টের কাজে যাওয়ার সময় বাধা পড়লে এটুকুই করি৷ এ ছাড়া আমার সে রকম কোনও বিশেষ রং নিয়ে, যেমন ধরা যাক, সোমবার বা মঙ্গলবার, অমুক রং পরলে ভাল হবে, এমন কোনও ব্যাপার নেই৷ আমার এক খুব কাছের বন্ধু, সে বেশ জনপ্রিয় পরিচালকও বটে, তো তাঁর খুব রং নিয়ে কুসংস্কার আছে দেখেছি, যে সোমবার এই রং পরব, মঙ্গলে ওই…আমি এক বার ওকে প্রশ্ন করেছিলাম, তা হলে সানি লিওন কী করে এত পপ্যুলার?

২) সাকসেস বা সাফল্য বলতে আপনি কী বোঝেন?

‘Success is accidental, you can only plan your failures…’ আমার কাছে, সাফল্য অর্জনের এই গোটা প্রসেসটাই খুব গুরত্বপূর্ণ৷ আমি যদি কোনও ফিল্ম বা যে কোনও প্রোজেক্টে কাজ করে মজা না পাই, তা হলে, হাজার বাহবা পেলেও, আমি সেই পুরো অভিজ্ঞতাটাই ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করব৷ যেমন ‘গোয়েন দা’ ছবিতে কাজ করে আমি যে আনন্দ পেয়েছি, আমি প্রসেসটা এতটাই এনজয় করেছি, সেটা আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ বেশ তৃপ্ত হয়েছি এ ছবিতে কাজ করে৷ যেমন বলতে পারি, আমার সব চেয়ে জনপ্রিয় ছবিটির স্মৃতি কিন্ত্ত, বিভিন্ন কারণে, আমার কাছে খুব একটা ভাল নয়৷ যদিও ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ থেকে আমার প্রেম হয় প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে, সেই ছবি থেকেই আমি প্রিয়াঙ্কাকে আমার স্ত্রী হিসেবে পাই, কিন্ত্ত অভিজ্ঞতার দিক দিয়ে যদি দেখি, তাহলে আমি ছবিটা মনে রাখতে চাই না৷ তার থেকে ‘গোয়েন দা’ আমার আরও বেশি করে মনে থাকবে, কারণ এই ছবি তৈরির প্রসেসটা আমি খুব এনজয় করেছি৷

৩) অভিনয়ের ক্ষেত্রে আপনাকে বিশেষ কেউ বা বিশেষ কোনও ঘটনা কি অনুপ্রাণিত করেছে?

নিশ্চিত ভাবে আমার বাবা৷ বাবা থিয়েটার করতেন এবং বাবার কাছেই আমার অভিনয় শেখা৷ তিন বছর বয়স থেকে বাবার সঙ্গে অভিনয় করেছি আর তাঁর জন্যেই একটা পরিবেশ পেয়েছি অভিনয় করার এবং শেখার৷ আর একজনের কথা না বললে অন্যায় হবে… তিনি হলেন শাহরুখ খান৷ তিনি বিরাট এক অনুপ্রেরণা৷ অর্থনীতিতে একটা কথা আছে… ‘Maximum utility of minimum resources…’, শাহরুখ খান দেখতে ভাল নন, সাংঘাতিক ভাল কণ্ঠস্বরও যে তাও নয়, মা-বাবাও কেউ স্টার ছিলেন না, সেখান থেকে দাঁড়িয়ে যে রাজত্ব করা শুরু করলেন, অসম্ভব ইন্সপায়ার করে৷ তিনিও তো টেলিভিশন দিয়েই অভিনয় কেরিয়র শুরু করেছিলেন, ফলে বলতে বাধা নেই, আমার অভিনেতা হিসেবে বেড়ে ওঠার বছরগুলোতে তাঁকে দেখে অসম্ভব অনুপ্রেরণা পেয়েছি৷

৪) আপনি নিজেকে কেমন অভিনেতা হিসেবে ভাবতে ভালবাসেন?

আমি অভিনেতা হিসেবে এক জন চা-ওয়ালা, যে চাইলে ‘গোয়েন দা’ হতে পারে৷ ভার্সেটাইল বলতে পারেন, কিন্ত্ত এই কথাটাও খুব ভেগ, কারণ আমি একটা চা-ওয়ালার রোলে এক রকম অভিনয় করব আর কোনও সম্রাটের ভূমিকায় একদম অন্য রকম অভিনয় করব… এর জন্যে আমার মনে হয় না খুব বেশি ভার্সেটাইল হওয়ার দরকার পড়ে৷ একটা মানুষ যদি পাঁচ বছর ধরে একটা চা-ওয়ালার চরিত্রে অভিনয় করে, তা হলে সেই চরিত্রটাকে সে কতটা বৈচিত্রময় করে তুলতে পারল, সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ৷

৫) আজও, দর্শক ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ছবিতে আপনার চরিত্রের সঙ্গে বেশ রিলেট করতে পারে, ব্যাপারটা কেমন লাগে আপনার?

এই যে দর্শক ওই চরিত্রের সঙ্গে সাংঘাতিক ভাবে কানেক্ট করে, তা বুঝি কেন৷ কারণ, ব্যর্থ প্রেমের বিষয়টা দর্শক খুব উপভোগ করে, প্লাস আমি এমন এক জন হিরো ছিলাম, যে দেব নয়, মানে আমি ওই স্বপ্নের মতো মানুষটা নয়৷ আমি ওই পাশের বাড়ির মানুষটা, যে দর্শকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য৷ সেই বয় নেক্স্ট ডোর ইমেজ৷ সেটাই এ ক্ষেত্রে খুব খেটে গেছে, আমার মনে হয়৷ আমি যদি এখন হঠাত করে পাঁচটা লোককে মারতে শুরু করি, আমি নিশ্চিত সেটা দর্শক একদমই উপভোগ করবেন না৷

৬) কখন কোনও হতাশার সম্মুখীন হয়েছেন, এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করাকালীন, যা ভুলতে পারেননি?

মোহনবাগানের ১৯১১-এর শিল্ড জয় নিয়ে একটা ছবি প্ল্যান করেছিলাম, যেটা প্রযোজনা করে আমি অনেক টাকার ক্ষতি করেছিলাম৷ শেষে ছবিটা মুক্তি পেয়েছিল, ‘এগারো’ নামে, কিন্ত্ত ছবিটা পরে যখন হয়, আমার সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেনি৷ কিন্ত্ত আমি বিশ্বাস করেছিলাম ছবিটায়, একটা ছোট চরিত্রও করতে চেয়েছিলাম৷ কিন্ত্ত যিনি ছবিটা লিখেছিলেন, তিনি অন্য প্রযোজক পেয়ে যাওয়ায়, আমার সঙ্গে এক বারও যোগাযোগ করেননি৷ আমিই কিন্ত্ত প্রোজেক্টটা একেবারে প্রথম দিকে দাঁড় করিয়েছিলাম, ক্রিয়েট করেছিলাম… নিজেই প্রযোজনা করতে চেয়েছিলাম, অভিনয়ও৷ কিন্ত্ত পরে যা ঘটল, তাতে সত্যিই খুব দুঃখ পেয়েছিলাম৷

৭) আপনার হবি কী? অভিনয় ছাড়া আর কী করতে ভাল লাগে?

লেখা, পড়া, সিনেমা দেখা… এই সব… অভিনয় ছাড়া এই সব নিয়েই থাকি৷

৮) এই ইন্ডাস্ট্রিতে আপনার সব চেয়ে কাছের বন্ধু বা বেস্ট ফ্রেন্ড কে?

যিশুদা৷ যিশু সেনগুপ্ত৷ ওকে আমি রাত দুটোর সময়েও কোনও সমস্যায় পড়লে ফোন করতে পারি৷ সর্বক্ষণ আমার পাশে ও দাঁড়াবে৷ প্রিয়াঙ্কাকে তো ধরা যাবে না, আমার স্ত্রী চিরদিনই আমার ভাল বন্ধুই থাকবে, আর RJ সায়ন আমার খুব ভাল বন্ধু, যদিও ওকে এখনও ঠিক ইন্ডাস্ট্রির একজন বলা যায় না, সে যাই হোক, সায়ন খুব ভাল বন্ধু৷

৯) প্রিয়াঙ্কা ছাড়া, অন্য কোনও ‘লাভ ইন্টারেস্ট’ আছে?

হ্যাঁ হ্যাঁ প্রিয়াঙ্কা ছাড়াও আছে আছে৷ আমায় কেউ ভালবাসে, ভালবাসছে, ভাবতেই খুব ভাল লাগে৷ প্রেমে পড়ার এই গোটা কনসেপ্টটাই আসলে আমায় খুব আকর্ষণ করে৷ যেগুলোকে আমরা ‘পাসিং অ্যাফেয়ার’ বলি না, মানে যেগুলো স্বল্পমেয়াদী, সেগুলো আমার সঙ্গে প্রায়ই হয়ে থাকে, এবং আমার ওই ভাবটা, বড় ভাল লাগে৷ বেশ এনজয় করি আমি৷ আমায় এগিয়ে যেতে সাহায্য করে তো ওগুলো৷

১০) অভিনয় ছাড়া ভবিষ্যতের কী প্ল্যান?

আমি সিরিয়াসলি পরিচালনায় আসতে চাই, কাজ চলছে সে মর্মে৷

১১) এমন কোনও বিশেষ চরিত্র আছে, যা করতে খুব ইচ্ছে হয়? যা এখনও আপনাকে কেউ অফারও করেনি?

‘ঘুণপোকা’ বলে শীর্ষেন্দু দা’র একটা উপন্যাস রয়েছে৷ তাতে একটি চরিত্র আছে ‘শ্যাম’ বলে৷ আমায় এখনও কেউ ওই চরিত্রটি অফার করেনি৷ খুব ইচ্ছে ওটা করার৷ খুব কঠিন উপন্যাস৷ অফার না পেলে, নিজেই ছবিটি বানানোর চেষ্টা করব৷