Latest on ZBC
Home / Gossips / রুদ্রনীলের সঙ্গে আড্ডা আর খোশ গল্প

রুদ্রনীলের সঙ্গে আড্ডা আর খোশ গল্প

অভিনয় জীবন, ইন্ডাস্ট্রি, শপথ, হতাশা, বন্ধুত্ব এবং ব্যক্তিগত জীবন, প্রেম ও বিয়ে নিয়ে মন খুলে কথা বললেন রুদ্রনীল।

 

১) যে কোনো ছবিতে কাজ করার সময় তোমার মনের মধ্যে কি কোনো কুসংস্কার কাজ করে ? বা যখন ধরো তোমার নতুন কোনো ছবি মুক্তি পাচ্ছে ?

কুসংস্কার নাকি বিশ্বাস, জানিনা এটা কে তোমরা কি বলবে। আমি শুধু আমার গম্ভীর মোড়ক থেকে বেরিয়ে একদম হালকা ছলে থাকতে চাই, মজার ছলে থাকতে চাই, যে চরিত্রটা করতে চলেছি, তার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা থাকতে চাই। সম্পূর্ণ নতুন উদ্যমে প্রত্যেকটা ছবি শ্যুট করি; ছবি শুরুর ৩-৪দিন আগে থেকে আমার ভূমিকা নিয়ে কথা বলা বন্ধ করে দিই। এটা কাজে লেগে গেছে আজ বহুদিন হল; তাই এই পন্থাটাই মেনে চলি।

২) আপনার মতে একজন অভিনেতার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি কি ?

মনুষ্য প্রজাতি হয়তো মিলে মিশে থাকতে পছন্দ করে, কিন্তু পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মিথ্যুক আমরাই। প্রত্যেক মানুষের একটা নির্দিষ্ট নিজস্বতা আছে – এইটা আমার কাছে একটা অপূর্ব বিষয়, যখন আমি প্রত্যেক মানুষের নিজস্বতাটাকে ধরতে পারি, বুঝতে পারি। যাদের সাথে সারাদিন দেখা হয়, আমি এই নিজস্বতাটাকেই তাদের মধ্যে খুঁজতে চাই, বুঝতে চাই। যেটা আমায় সব সময় সাহায্য করেছে পরবর্তী সময়ে। আমার কাছে আমার অভিনীত সবকটি চরিত্রই খুব কঠিন। আমার মতে, একজন অভিনেতাকে প্রথমে মানুষদের বুঝতে হবে। দর্শকই আমার ভগবান। দর্শক আমার কোনো অভিনয়ে খুশি হলে, সেটাই আমার কাছে সাফল্য।

৩) অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার পেছনে অনুপ্রেরণা কে বা কি ?

আমার বাবা একজন চিত্রকার ছিলেন। আমিও ছবি আঁকা দিয়েই আমার কর্মজীবন শুরু করি। বাবাই আমায় শিখিয়েছিলেন যে মানুষের চোখ’ই হচ্ছে তার মনের দর্পণ। এই শিক্ষাটা আমায় এতটাই অনুপ্রেরিত করে তোলে যে আমি অভিনয় জগতে চলে আসি। এখনো আমি কোনো ভূমিকার প্রেক্ষাপট সম্বন্ধে পড়াশোনা করলে, সেই চরিত্রের চোখ সম্পর্কে খোঁজ নিই। এইটা আমার অভিনয়কে সব সময়ই সমৃদ্ধ করেছে। আমি আমার বাবার কাছে কৃতজ্ঞ যে আমার জীবনে এতো বড় ভূমিকা উনি পালন করেছেন – এর জন্য আমি ওনার কাছে চিরকৃতজ্ঞ।

৪) নিজেকে শিল্পী হিসেবে ভেবে কেমন অনুভব করেন ?

দেখুন, আমি নিজেকে কোনোদিনই টাইপ-কাস্ট করতে চাইনি – কমেডিয়ান, প্রেমিক, খুনে কিংবা সোজা খলনায়ক, অগুনতি চরিত্রে অভিনয় করেছি এখনো পর্যন্ত এবং এই সকল ভূমিকায় আমার অভিনয় দর্শক প্রশংসাও করেছে। তারা আমায় অভিনেতা হিসেবে চিনেছে। আমি তাই “বড়মাপের অভিনেতা” হিসেবেই খ্যাত হতে চাই।

৫) ইন্ডাস্ট্রিতে আপনার প্রিয় বন্ধু কে এখন ?

সত্যি কথা বলতে, আমি নিশ্চিত ভাবে কাঞ্চন মল্লিক এর নাম নেবো। চিরকাল, সুখ-দুঃখে, আপদে-বিপদে, ও আমার পাশে থেকেছে, কোনো দিন হাত ছাড়েনি – সত্যিকারের বন্ধু যেমন হয়। এছাড়াও রাজ চক্রবর্তী’র নাম নেবো, আমরা যখন থেকে এক রুমে থেকে ক্যারিয়ার শুরু করেছি তখন থেকে রাজ আমার ভাল বন্ধু। পরমব্রতও আমার খুব ভালো বন্ধু।

৬) আপনার ব্যক্তিগত জীবন ও প্রেম নিয়ে কিছু বলুন দর্শকদের উদ্দেশ্যে ।

সত্যি বলতে গেলে, আমার প্রথম প্রেম ছিল অনন্যা চ্যাটার্জী। টিভিতে একসাথে কাজ করার সূত্রে, আমরা সত্যি খুব ভালো বন্ধু হয়ে যাই। ওর মধ্যেকার সম্ভাবনা, বহুমুখী প্রতিভা, এসব লক্ষ্য করে আমি ওর প্রেমে পড়ে যাই। কিন্তু সেই প্রেম কোনোদিন ডানা মেলে উড়তে পারেনি। আমরা আজও ভালো বন্ধু’ই আছি। আমার তনুশ্রী চ্যাটার্জী’র সাথে সম্পর্কটাও খুবই ভালো ছিল। আমি ওকে সত্যিই খুব ভালোবাসতাম, এখনো ভালোবাসি, কিন্তু ওর বিভিন্ন দায় -দায়িত্ব থাকার দরুন আমাদের ভিন্ন পথ বেছে নিতে হয়। ও আমার এক খুব’ই ভালো বন্ধু হয়ে রয়ে গেছে।

৭) জীবনে সব থেকে বড় হতাশা জনক ঘটনা কবে এসেছে ?

সেরকম চড়াই-উতরাই আমাদের সবার জীবনেই আসে, তাই নয় কি ? আমি সেরকম লোক নয় যে জীবনের কঠিন দিক গুলো দেখে হতাশ হয়ে পড়বে। কিন্তু একটা ঘটনা চিরকাল মনে রাখবো, আমায় না জানিয়ে আমার বদলে যেদিন বুদ্ধদেব দাসগুপ্ত নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকিকে “আনোয়ারের আশ্চর্য কাহিনী”-তে বেছে নেয়, সেই দিনটা আমি ভুলতে পারবো না কোনোদিন। আমি আমার সিডিউল নতুন করে প্ল্যান করেছিলাম এই ছবিটার জন্য, এবং এই ঘটনা মানসিক ভাবে আমায় বিপর্যস্ত করে দেয়। আমি স্বপ্নেও ভাবিনি এমনটা ঘটবে আমার সাথে। পরিচালকের প্রতি সকল সম্মান বজায় রেখেই বলছি, আমার অনুরোধ সকল অভিনেতাদের তাদের প্রাপ্য সম্মানটুকু যেন দেওয়া হয়।

৮) আপনার শখ কি ?

আমি মানুষদের আরো গভীরভাবে জানতে, চিনতে চাই ও সেটাই আমি সর্বক্ষণ করে চলেছি। এটাই আমার প্রিয় শখ বলতে পারেন।

৯) “ওয়ার্কশপ” – আপনার প্রোডাকশন হাউস নিয়ে ভবিষ্যতে পরিকল্পনা কি কি ?

“ওয়ার্কশপ” এমন একটা জায়গা যেখানে আমার দলের বাকিরা ও আমি দিনের প্রায় ১৪-১৫ ঘন্টা একসাথে কাটাই। আমরা সব সময় নতুন কিছু করার চেষ্টায় রয়েছি। টিভির জন্য নতুন কাজ, বড় পর্দার জন্য নতুন কাজ, আমাদেরও কিছু নতুন পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা প্রাণপণ চেষ্টা করছি নতুন কিছু দর্শকের সামনে আনার। আমরা কিছু জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল ’এর সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করছি। ছবি প্রযোজনার দিকেও মনোনিবেশ করছি। আমরা নিশ্চিত “ওয়ার্কশপ” একদিন সকল দর্শকের চোখের মণি হয়ে উঠবে।

১০) বিয়ে করছেন কি শীঘ্রই ?

(লাজুক ভাবে) হ্যাঁ, মানে ওই আর কি বলতে পারেন। আমার বন্ধুদের মতে, আর যদি দেরী করি বিয়ে করতে, তাহলে যখন বাচ্ছাদের স্কুলে নিয়ে যাব তখন ওদের বন্ধুরা আমায় দাদু বলে ডাকবে। আমি সেই সব মহিলাদের কাছে বিয়ের প্রস্তাব রাখছি যারা আমার যোগ্য সঙ্গিনী হয়ে উঠতে পারবে বলে আমার মনে হয়। কেউ কেউ আমায় প্রত্যাখান করেছে অবশ্য, কেউ কেউ আমায় অপেক্ষার তালিকাতেও রেখেছে বটে। আমার এমন একজন সঙ্গিনী চাই যে কিনা আমায় বুঝতে পারবে এবং আগামী দিনে পথ চলতে সাহায্য করবে। দিনের শেষে বাড়িতে এমন একজন অপেক্ষা করবে যে কিনা সমমনস্কের, যে কিনা চলার পথের সাথী। ‘সেই মেয়েটির’ জন্য আমি অপেক্ষা করছি। তবে হ্যাঁ, এই বছরের শেষেই বিয়ে আমি নিশ্চিত ভাবে করছি।