Latest on ZBC
Home / Gossips / অন্তরঙ্গ আলাপচারিতায় সোহিনী

অন্তরঙ্গ আলাপচারিতায় সোহিনী

কুসংস্কার, সাফল্য, হতাশা, অনুপ্রেরণা, বন্ধুত্ব এবং আরো নানান বিষয়ে কথা বললেন সোহিনী।

 

১) নতুন কোনও ফিল্ম শুরু করার আগে, বা রিলিজ করার সময়, আপনি কোনও কুসংস্কারে ভোগেন নাকি?

যাঁরা কুসংস্কারে বিশ্বাস করেন, তাঁদের এ ব্যাপারে অনেক মাথা দিতে হয়৷ আমার এই বিষয় নিয়ে ভাবার ক্ষমতা নেই৷ আমি প্রথম যখন ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছিলাম, আমার প্রথম দু-তিনটে প্রোজেক্ট, মানে পাইলট, বিভিন্ন চ্যানেলে জমা দেওয়া হচ্ছে আর কী, আমায় শীর্ষ ভূমিকায় নেওয়া হয়েছে, যদিও ওগুলো ফাইনালি কোনওটাই অন-এয়ার হয়নি৷ এটা একেবারে শুরুর দিকের কথা ৷ তার পর যেটা হল, কোনও লুক টেস্ট হওয়ার পর, হয়তো আমি নিজেই কোনও কুর্তা নিজে বানিয়ে পড়ে এলাম এবং সেই প্রোজেক্টটা যদি ক্লিক করত, মানে আমি যদি পেয়ে যেতাম প্রোজেক্টটা… তার থেকে আমার তখন ধারণা হয়েছিল, যে নিজের টাকায় জামাকাপড় বানিয়ে পড়লে হয়তো আমার জন্যে সেটা লাকি৷ কিন্তু তার পর অবশ্য সেই সব আর হয়ে ওঠেনি৷ বুঝেছিলাম যে সেটা কুসংস্কার ছিল, এবং এখন সেটা কেটেও গেছে৷

২) সাকসেস্‌ বা সাফল্য বলতে আপনি কী বোঝেন?

আমার তো মনে হয়, আমাদের এই ইন্ডাস্ট্রিতে এই ‘সাকসেস্‌’ কথাটা বড্ড ভেগ৷ ইনফ্যাক্ট আমি সাকসেস্‌-কে ডিফাইন করতেই চাই না৷ আরে ধরুন না, এমনকী অমিতাভ বচ্চন-ও তো প্রযোজক রূপে এক বার বেকায়দায় পড়েছিলেন৷ হেরেছিলেন বলা যায়৷ জীবন যে ভাবে আমায় বরণ করে নেবে, আমি মেনে নেব, মানিয়ে নেব৷ তবে হ্যাঁ, সফল হতে গেলে, আমার মতে, মাটিতে পা থাকাটা অত্যন্ত জরুরি৷

৩) অভিনয়ের ক্ষেত্রে আপনাকে বিশেষ কেউ বা বিশেষ কোনও ঘটনা কি অনুপ্রাণিত করেছে?

ক্লাস ইলেভেন পাস করে, প্রথম আমার এ জগতে আসা৷ যে পরিমাণ অ্যাটেনশান এক জন অভিনেতা পান, সেই ব্যাপারটা সব চেয়ে আকর্ষণ করেছিল৷ ওই অ্যাটেনশান ব্যাপারটা আমায়, কী বলব, একটা অসম্ভব অ্যাড্রেনালিন রাশ বা আমরা বলি না, হাই, সেটা দিয়েছিল৷ আমি ২০০৮ সালে Zee-তেই ‘রাজপথ’ বলে একটা শো-এ একটা চরিত্র করেছিলাম, তা সেই তখন থেকেই বুঝেছিলাম, অভিনয়কে ক্যাজুয়ালি নিলে চলবে না, এটা একটা সিরিয়াস পেশা৷ আমি ছোটো শহর থেকে তো এসেছি, তাই বুঝতে পারছিলাম, টেকনিকালি হয়তো আমি খুব কিছু ভাল করে উঠতে পারছি না৷ যদিও খড়দা-য় আমি থিয়েটার করছি, তবুও আমি এখানে এসে ‘চেতনা’ জয়েন করি৷ আরও ভাল করে অরুণ মুখোপাধ্যায়ের কাছে প্রশিক্ষণ নিতে গিয়ে বুঝি যে সত্যি এই পেশাটা সহজ নয়, এবং আমি পুরো ব্যাপারটা একটু সিরিয়াসলি নিয়েছি নিজের জীবনে৷ অন্য কিছু করতে পারলাম না বলে অভিনয় করব, ব্যাপারটা ঠিক তা নয়… তো এই সব কিছু মিলে মিশেই আমার কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়াল আর কী৷

৪) আপনি নিজেকে কেমন অভিনেতা হিসেবে ভাবতে ভালবাসেন?

হুম…আমি খুব কম ভাবি জানেন! আসলে আমি এ সব বিষয় নিয়ে খুব একটা ভাবি না৷ আমার কোনও ইনহিবিশন বা বাধো ভাব নেই, কিন্ত্ত আমি এটা সব সময়ে দেখি এত দিনের অভিজ্ঞতার পরে যে আমার চরিত্রটা কতটা দরকারি, অভিনেতা হিসেবে এটা আমার কাছে খুব ইম্পর্ট্যান্ট৷ অনেক সময়ে হয়, যে পরিচালক ভাল, গল্পও তাই, কিন্ত্ত হয়তো আমার চরিত্রটা পছন্দসই নয়৷ তো আমি আসলে, আমি যে চরিত্রটায় অভিনয় করব, আমাকে যেটা অফার করা হচ্ছে, সেটা নিয়ে বেশি ভাবি৷ অবশ্যই ভাল পরিচালক বা বা ভাল চরিত্র পেলেই কাজ করি বা করবও৷

৫) এই ইন্ডাস্ট্রিতে আপনার সব চেয়ে কাছের বন্ধু বা বেস্ট ফ্রেন্ড কে?

বন্ধু আমার অনেক রয়েছে, কিন্তু খুব বিপদে পড়লে প্রথমে যাকে ফোন করব, সে রকম কোনও বন্ধু নেই৷ হতেই পারে কোনও বিপদে পড়লে কাউকে আমায় ফোন করতে হল… আমার মায়ের কখনও শরীর খারাপ হলে রাত্রিবেলা হতেই পারে আমায় ফোন করতে হল… কিন্তু রাত দুটোর সময় আমার যদি গাড়ির কোনও অ্যাক্সিডেন্ট হয়, আমি পুলিশকে ফোন করব, ড্রাইভারকে ফোন করব আগে এবং ক্রাইসিসটা সামলাব হয়তো, পরে বন্ধুদের জানাব-টানাব৷ ফলে, ইন্ডাস্ট্রিতে বন্ধু অনেক রয়েছে, কিন্তু সে অর্থে ‘বেস্ট ফ্রেন্ড’ কেউ নেই৷

৬) এই ইন্ডাস্ট্রিতে কেউ কি আছেন, যাঁর সঙ্গে আপনার মন দেওয়া-নেওয়ার পালা চলেছে?

ইন্ডাস্ট্রিতে একদমই কেউ নেই৷ অবশ্যই আছেন কেউ, আমার জীবনে, যিনি খুবই নাম করা সাংবাদিক, এবং আমার খুব কাছের মানুষ৷ আমি বিশ্বাস করি, যে আমার মন যে ভাবে বলবে, আমার শরীর যে ভাবে চাইবে, আমি সেটাই করব৷ এগুলো আমার মনে হয়, কেউ নির্ধারণ করতে পারে না, যে ঠিক কী হবে৷ কিন্ত্ত হ্যাঁ, আমি ভাল বন্ধুত্বে খুব বিশ্বাস করি, ফলে আমি চাইব, যার সঙ্গেই আমার সম্পর্ক হোক না কেন, সে সবার আগে বন্ধু হিসেবে আমার পাশে থাকবে এবং ভাল বন্ধু হবে… আমি সব কিছু তাঁর সঙ্গে শেয়ার করে নিতে পারব৷

৭) কখন কোনও হতাশার সম্মুখীন হয়েছেন, এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করাকালীন?

সত্যি কথা বলতে এখনও অবধি এ রকম কোনও ঘটনা ঘটেনি যেটাকে খুব গুরুত্ব দিয়েছি৷ অনেক কিছুই ঘটে, ঘটেছে, কিন্তু আমি অতটা আমল দিইনি বা মনেও রাখিনি৷

৮) আপনার হবি কী?

আমার হবি… সত্যি হচ্ছে ঘুমনো৷ ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে আমি প্রচুর স্বপ্ন দেখি এবং পরে সেগুলো লিখেও রাখি, সত্যি৷ ছোটবেলায় খুব অদ্ভুত সব স্বপ্ন দেখতাম, কিন্ত্ত সেটা লিখে রাখতে পারতাম না৷ কিন্ত্ত একটু বড় হওয়ার পর থেকেই আমি সিরিয়াসলি এটা করি৷ লিখে রাখি৷ এখনও যদি কোনও দিন বাড়ি থেকে না বেরোতে হয়, তা হলে আমি যা স্বপ্ন দেখেছি আগের রাত্রে, সেটা লিখে রাখি৷ এটা সত্যিই আমি খুব এনজয় করি৷

৯) বিয়ে করবেন না? ইচ্ছে নেই?

এখনও তো কোনও প্ল্যান নেই৷ করব তো নিশ্চয়ই, কিন্তু কবে জানি না৷ এখন শুধু কাজ নিয়েই থাকতে চাই, ব্যস৷