Latest on ZBC
Home / Gossips / শ্রীলেখা’র কথা

শ্রীলেখা’র কথা

অভিনয় জীবনে সাফল্যের মাপকাঠি, বন্ধুত্ব, একাকীত্ব, হবি, ছোটবেলার প্রেম নিয়ে এক খোলামেলা আলাপচারিতায় শ্রীলেখা।

 

১) ছবি মুক্তি অথবা নতুন কোনও কাজ শুরু করার আগে আপনার কি কোনও কুসংস্কার কাজ করে?

আমি কোনও কুসংস্কার মানি না… আমি শুধু নিজেকে পজিটিভ রাখার চেষ্টা করি, ফোকাসড থাকি। তবে একটা জিনিস একটু মেনে চলি। নতুন কোনও ছবি রিলিজের দিনে অথবা নতুন কোনও শো-র শুরুতে আমি পোশাকের রং সম্পর্কে একটু বেশিই সচেতন থাকি। ওই একটা জিনিসেই আমার বিশ্বাস।

২) আপনার কাছে সাফল্যের মানে কী?

সাফল্য শব্দটা খুবই আপেক্ষিক। আমার কাছে যেটা সাফল্য, অন্যের কাছে সেটা সাফল্যের প্রতীক নাও হতে পারে। সাফল্যের সঙ্গে ব্যক্তি বিশেষের আর্থিক সচ্ছলতারও যোগ রয়েছে। সত্যি বলতে কি, সাফল্যের কোনও নির্দিষ্ট সংজ্ঞা আমার কাছে নেই। প্রত্যেকেরই নিজের সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা দরকার। জীবনে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি যদি আমার কাজ, আমার জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট থাকি তাহলে সেটাই সব থেকে বড় সাফল্য। আমি যা করেছি, যেটুকু অ্যাচিভ করেছি তা নিয়ে আমি খুবই খুশি। আমি বিশ্বাস করি জীবনে আমি সম্পূর্ণভাবে সফল।

৩) হ্ঠাৎ করে অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নিলেন কেন? কী থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন এই পেশায় আসার?

আমার বাবা থিয়েটার করতেন। ছোট থেকে দেখেছি বাড়িতে নাটকের মহড়া হচ্ছে… স্টেজে বাবাকে অভিনয় করতে দেখেছি। তাই ছোটবেলা থেকেই পারফর্মিং আর্টস-এর প্রতি আমার টান, ভালোবাসা ছিল। স্কুলে পড়াশোনায় আমি খুবই ভালো ছিলাম। কিন্তু আমার সব থেকে বেশি আগ্রহ ছিল স্টেজ শো-এর প্রতি। অন্যরকম আনন্দ পেতাম যখন আমার কাজের জন্যে প্রশংসা পেতাম। তখন থেকেই বুঝতে পেরেছিলাম স্টেজে আমাকে আজীবন কাজ করতে হবে। বাবাকে অভিনয় করতে দেখা থেকে যে ভালোবাসার শুরু আজ পর্যন্ত তা অমলিন থেকে গেছে। আমার মা-বাবা দু’জনেই আমাকে সমানে সাপোর্ট করে গেছেন… তাঁদের সাহায্য ছাড়া আমার অভিনয় জীবন সফল হত না।

৪) অভিনেতা হিসেবে নিজেকে কেমন লাগে?

আমি নিজেকে বেশ ভালো অভিনেতাই মনে করি। ইন্ডাস্ট্রির অনেকের থেকেই আমি ভালো। তবে একটা কথা এখানে বলতে চাই… আমি এখনও এমন একটি চিত্রনাট্য ও পরিচালকের অপেক্ষায় আছি যিনি আমাকে আরও ভালো কাজ করিয়ে নেবেন। এখনও পর্যন্ত এমন একটিও চিত্রনাট্য পেলাম না যা আমাকে আরও ভালো কাজ করতে উৎসাহ দেবে। আমার মধ্যে যে ‘ক্রেজিনেস’ আছে, তা কোনও চরিত্রে ফুটে ওঠেনি এখনও।

৫) ইন্ডাস্ট্রিতে আপনার সব থেকে প্রিয় বন্ধু কে?

প্রথম যখন কাজ শুরু করি তখন ভাবতাম এই ইন্ডাস্ট্রিতে কেউ কারও বন্ধু হয় না। কিন্তু আমার সেই চিন্তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। আমার খুব ভালো বন্ধু হলেন পরিচালক অনীক দত্ত ও তাঁর স্ত্রী সন্ধি। এই বন্ধুত্বটা একেবারেই কাজের বাইরে। ওদের সঙ্গে আমার সম্পর্কের উষ্ণতা একেবারে আলাদা। অনীক দা যেমন, আমি ঠিক তেমন ভাবেই ওকে মেনে নিয়েছি। অভিনেত্রী বিদীপ্তা চক্রবর্তী এবং রূপাঞ্জনাও আমার খুব ভালো বন্ধু। সত্যি বলতে কি রূপাঞ্জনা তো আমার নিজের বোনের মতোই। আমি খুবই অ্যাকোমোডেটিভ। জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত আনন্দে কাটাতে চাই। কোনও নেতিবাচক চিন্তা করি না। ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’… আমার জীবনের এটাই মন্ত্র।

৬) এই ইন্ডাস্ট্রির কাউকে কোনওদিন ভালোবেসেছেন?

ইন্ডাস্ট্রিতে এমন কাউকে কোনওদিন পাইনি যাঁর সঙ্গে কোনও সিরিয়াস অ্যাফেয়ার করা যায়। ইন্ডাস্ট্রির একজনের সঙ্গেই আমার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং তাকেই পরে বিয়ে করেছিলাম। ইটিভি-র জন্যে একটি টেলিফিল্ম করতে গিয়ে শিলাদিত্যর সঙ্গে পরিচয়। কোনও অভিনেতাকে প্রেমিক হিসেবে মেনে নেওয়াটা আমার পক্ষে অসম্ভব ছিল… তাঁরাও তো আমারই মতো। তাই আমি জীবনসঙ্গী হিসেবে চেয়েছিলাম কোনও স্মার্ট ইন্টেলিজেন্ট মানুষকে। যার মধ্যে আমার মতো পাগলামিও থাকবে। তাঁর মধ্যে সেই “Zing” থাকতে হবে আর এই পেশার হলে চলবে না। তবে এই মুহূর্তে এমন কোনও মানুষ নেই আমার জীবনে।

৭) এই ইন্ডাস্ট্রিতে কোনওদিন আশাভঙ্গ হয়েছে?

আমি খুব পজিটিভ একজন মানুষ। দুঃখ বিলাসী হওয়া আমার ধাতে নেই। আমাকে অনেকেই বলেছেন আমার পিআর একেবারে ভালো না। পরিচালক বা প্রযোজক কারও সঙ্গে কোনও বাড়তি পিআর আমি মেন্টেন করি না। আমি একেবারেই page3 সেলেব নই। এইগুলো আমি একেবারেই উপভোগ করি না। মাঝেমধ্যে এই সবকিছু নিয়ে মন্তব্য আমাকে কষ্ট দেয়। কিন্তু আমি তাতেও বদলাইনি। এই সব কিছু করার থেকে শর্টস আর টিশার্ট পরে ঘরে বসে কোনও ভালো ছবি অথবা টিভিতে আমেরিকান সিরিজ দেখতে ভালো লাগে আমার। সবাইকে একটা কথাই বলতে চাই… আমাকে আমার কাজের নিরিখে বিচার করুন। তার থেকেই আমি মানুষের শ্রদ্ধা পাবো আর ভালো কাজও পাবো।

৮) আপনার হবি কী?

আমি বই পড়তে ভালোবাসি… আর এটাও হয়তো অনেকেই জানেন লেখালেখি করতেও আমার খুব ভালোলাগে। তাছাড়া ওয়ার্ল্ড সিনেমা এবং টিভিতে আমেরিকান সিরিজ দেখতেও আমি খুবই ভালোবাসি। এই সিরিজের প্রতিটি চরিত্রই খুব পরিতৃপ্ত। এটা আমি উপভোগ করি।

৯) আবার নতুন কোনও সঙ্গীর সঙ্গে জীবনটা নতুন করে সাজিয়ে তুলতে ইচ্ছে করে?

একাকীত্ব কাটানোর জন্যে আবার কোনও নতুন সম্পর্কে জড়াতে চাই না। আমি একেবারেই একা নই যে। আমার জীবনে আমার মেয়ে আছে… ও আমার সবকিছু, আমার সব থেকে বড় সাপোর্ট। এ ছাড়াও আমার মা-বাবা ও বন্ধুবান্ধবরা আছেন। সঙ্গী পেলে মন্দ হয় না, তবে আবার করে সংসার করার কোনও ইচ্ছে নেই আমার। শিলাদিত্যর সঙ্গে এখনও আমার এবং মেয়ের খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে। শিলাদিত্য খুব ভালো রান্না করে। আজও আমার পছন্দের কিছু রান্না করলে ও পাঠিয়ে দেয় আমাকে অথবা আমাদের ওর বাড়িতে ডেকে নেয়। ডিভোর্সের পরেও আমরা খুব ভালো বন্ধু। আজীবন আমি এই বন্ধুতা বাঁচিয়ে রাখতে চাই। ডিভোর্সড কাপল্‌-এর আদর্শ উদাহরণ আমরা।

১০) ছোটবেলা বা স্কুল জীবনের কোনও প্রেম আছে?

না, ইনফ্যাচুয়েশন, ফ্লিকস অনেক হয়েছে স্কুলে পড়ার সময়ে। এমনকি কলেজেও। তবে সেই সময়ে কোনও সিরিয়াস সম্পর্ক তৈরি হয়নি।