Latest on ZBC
Home / Gossips / প্রাণখোলা আড্ডায় ঊষসী

প্রাণখোলা আড্ডায় ঊষসী

নিউমেরোলজি, সাফল্য, অভিনয়, বন্ধুত্ব, টলিউড থেকে
ওয়েট লিফটিং – নানা বিষয়ে কথা বললেন ঊষসী

 

১. ঊষসী, আপনি কোনও কুসংস্কারে বিশ্বাস করেন? বিশেষ করে নতুন কাজ শুরুর সময়ে বা সিনেমা রিলিজের আগে?

একজন নিউমেরোলজিস্ট আমাকে বলেছিলেন কোনও স্পেশাল দিনে নীল রং পড়তে। কিন্তু আজ পর্যন্ত মনে করে সেটা করেই উঠতে পারিনি কখনও। তাই এই বিশ্বাস, কুসংস্কার, এই সব ব্যাপারে আমার কোনও মাথা ব্যাথা নেই। ছবির প্রিমিয়ার বা রিলিজের সময় কোন অনুষ্ঠান থাকলে আমি সেই অনুষ্ঠানের সঙ্গে মানানসই ড্রেস পড়ি। আবার আমাকে অনেকেই বলেছেন ৮ সংখ্যাটি এড়িয়ে চলতে – যখন আমি গাড়ি কিনলাম, অনেক চেষ্টা করেছিলাম আমার পছন্দমতো গাড়ির নম্বর পেতে। কিন্তু যখন গাড়ি পেলাম দেখলাম যে নম্বরের যোগফল সেই ৮! যতই চেষ্টা করি না কেন, ৮ সংখ্যাটি আমার পিছু ছাড়ে না কিছুতেই। তাই এই সব উপদেশ আমি কখনই মেনে চলতে পারি না, আর সত্যি বলতে কি আমার মনে হয় না কোন রং বা সংখ্যা আমাকে লাকি করে দিতে পারে।

২. আপনার কাছে সাফল্যের অর্থ কী?

Success to me is when I would really have some “power” – একমাত্র তখনই আমি নিজের মতো করে কাজ করতে পারব এবং নিজের পছন্দের কাজ করতে পারব। আমি সব সিদ্ধান্ত নিতে পারব এবং লোকজন আমার ওপরেই নির্ভর করবে যে কোন কাজের জন্য। এটাই তো “power”! আর আমার মনে হয় এটাই সাফল্য।

৩. অভিনয় জগতে এলেন কেন? কোন মানুষ বা কোন ঘটনা কি অনুপ্রাণিত করেছে অভিনয়ে আসার ক্ষেত্রে?

আমার রিপোর্টার হওয়ার ইচ্ছে ছিল; ভীষণভাবে চাইতাম রিপোর্টার হতে। অভিনয় জগতে এসে পড়েছি accidentally! তখন একটি চ্যানেল ছিল ZEE ALPHA, তারা রিপোর্টার নিয়োগ করছিল। আমি গিয়েছিলাম ইন্টারভিউ দিতে, আর সেখানেই একটা টেস্টও হয়েছিল। আমাকে ওরা সিলেক্ট করেছিল, তবে রিপোর্টার নয়, news anchor হিসেবে। সেই শুনে তো আমার খুব মন খারাপ হয়েছিল – আসলে আমার তখন স্বপ্ন ছিল Barkha Dutt হওয়ার। ZEE ALPHA-তে newsreader থাকার সময় আমি ডাক পেলাম ‘খাস খবর’ থেকে। তখন ‘খাস খবর’ খুব popular news programme ছিল। আমি খাস খবরে যোগ দিলাম ওই সেই newsreader হয়েই – ততদিনে আমার রিপোর্টার হওয়ার স্বপ্ন ভেঙ্গেই গেছে। মীর, সুদীপ্তা, রিনি এরা সবাই তখন খাস খবরে। খাস খবরে কাজ করে আমি popularity, fame, confidence, সব পেয়েছি। সেই সঙ্গে ছোটো খাটো tele-series-এ অভিনয়ের সুযোগও আসতে থাকল। এই ভাবেই অভিনয়ের জগতে এসে পড়েছিলাম আর একটু একটু করে অভিনয়কে ভালোও বেসে ফেললাম, বুঝতে পারলাম যে আমি অভিনয় করতে সত্যই কতটা ভালোবাসি। আজ পর্যন্ত যেটুকু কাজ করেছি, তা অভিনয়কে ভালোবেসে।

৪. একজন অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে কীভাবে দেখতে চান?

আমি চাই দর্শক আমাকে মনে রাখুক একজন “Serious Actor” হিসেবে। আমি জনপ্রিয়তার থেকেও বেশি কিছু চাই; আমি কিছু নির্দিষ্ট মানুষের কাছে পৌঁছতে চাই, niche audience যাকে বলে। এই niche audience যেন এটা বুঝতে পারে যে আমি খুব ভেবেচিন্তে কোন চরিত্রে কাজ করি, এমন নয় যে যা অফার পাই সবই নিয়ে ফেলি। তার মানে এই নয় যে আমি নতুন বা অন্যরকম কোন চরিত্রে অভিনয় করতে চাই না – আমি সব ধরণের চরিত্রে কাজ করতে চাই। আর সব সময় চাই যে দর্শক আমাকে “Serious Actor” হিসেবেই মনে রাখুক।

৫. এই ইন্ডাস্ট্রিতে আপনার কোন বেস্ট ফ্রেন্ড আছে?

এটা ঠিক যে ইন্ডাস্ট্রিতে কোন “best friends” হয় না, কিন্তু আমি বেশ কয়েকজন খুব ভালো বন্ধু পেয়েছি। মনামি আমার খুব ভালো বন্ধু, তাছাড়াও মুমতাজ সরকার, অপরাজিতা ঘোষ দাস এরাও আমার খুব ভালো এবং কাছের বন্ধু। আমাদের চিন্তাভাবনা বেশ মেলে আর আমরা সবাই খুব ভালো বন্ধু। তবে এটাও ঠিক যে, আমি যদি পেশাগত কোন সমস্যায় পড়ি, তাহলে আমার fiancé ছাড়া অন্য কারোর ওপর ভরসা করতে পারব না। আমার fiancé এই ইন্ডাস্ট্রিরই একজন; আমি আর আলাদা করে তার নাম উল্লেখ করতে চাই না।

৬. এই ইন্ডাস্ট্রি বা কাজ সংক্রান্ত কোন ঘটনা বা disappointment যা কখনও ভুলতে পারবেন না?

এই ধরণের ঘটনা তো রোজই ঘটে। কোন একটি এরকম ঘটনা যদি বলতে বলা হয়, তাহলে একটি অভিজ্ঞতার কথা বলতে পারি। আমার একজন বন্ধুকে আমি এই ইন্ডাস্ট্রির বেশ কিছু মানুষের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু কয়েকটি ছবি করার পরই সে আমাকে ignore করতে থাকে, পার্টিতে বা কোন gathering-এ আমাকে দেখে যেন চিনতেই পারত না। একজন বন্ধুর এই ব্যবহারে আমি যেমন দুঃখ পেয়েছিলাম, তেমনই অবাকও হয়েছিলাম। এই বন্ধুকে আমি বহু দিন আগে থেকে চিনতাম, এই ইন্ডাস্ট্রিতে আসার বহু বছর আগে থেকে। এটা ভেবে আমার অবাক লেগেছিল যে সাফল্য মানুষকে এতটা পাল্টে দিতে পারে? এটাই কি সাফল্য? সেই দিন থেকে আমি বুঝেছি যে এই ইন্ডাস্ট্রি কখনও বন্ধু দিতে পারে না, বরং বন্ধু কেড়ে নিতে পারে। আরও একটা হতাশার বিষয় হল, এখানে কারোকে বিশ্বাস করা যায় না। এদিকে ছোট থেকে আমাকে শেখানো হয়েছে মানুষকে বিশ্বাস করতে! তাই এই ছোট একটা ইন্ডাস্ট্রিতে কারোকে বিশ্বাস না করতে পারাটা আমার কাছে খুব কষ্টের। এখানে লোকজনের খুবই সামান্য ও সাধারণ কিছু হতাশা আর অসহায়তা আছে, টলিউডে তো আছেই। হয়তো বলিউড বা মুম্বই’তে জিনিসটা এরকম নয় কারণ ওটা অনেক বড়ো জায়গা। কিন্তু কলকাতায়, তুমি লোকজনকে যতই বিশ্বাস করো, তারা সেই বিশ্বাসের মূল্য দেবে না।

৭. আপনার hobby কী?

Hobby as in my passion is “Weight Lifting” – যদিও আমাকে দেখে অনেকেই বিশ্বাস করতে পারেন না যে আমি weight lifting করি! আমি Kettle Bell নিয়মিত practice করি আর খুব ভালোবাসি। এখন এক হাতে ১৬ কেজি weight তুলতে পারি। এটা একটা Russian Event – একজন Russian Coach আমাকে guide করেন কলকাতায়। আমি খুবই স্বাস্থ সচেতন – health freak যাকে বলে। সেই সঙ্গে আমি খেতেও খুব ভালোবাসি। আমি মিষ্টি খেতে খুব ভালোবাসি। মিষ্টি খাওয়ার জন্যে আমি অনেক অদ্ভুত কান্ডকারখানা করি, অনেক রাতেও আমি কোন দোকানে হাজির হই কুলফি বা অন্য কোন মিষ্টি খেতে। তবে আমি সব থেকে ভালোবাসি weight lifting করতে – কলকাতায় Kettle Bell Training Center শুরু করার ইচ্ছেও আছে ভবিষ্যতে।

৮. আপনি তো নিজের production house তৈরি করেছেন? এর পরে কী? কী কী পরিকল্পনা রয়েছে? আর এই production house করার ভাবনাটা এল কীভাবে?

আমার মনে হয়েছিল যে আমি যথেষ্ট creative কাজ করছি না। আমি আর আমার partner দুজনেরই এরকমটা মনে হয়েছিল। আমি এই মুহূর্তে আমার partner-এর নাম উল্লেখ করতে চাই না, যেহেতু সেও এই ইন্ডাস্ট্রির একজন। তো সেই ভাবনা থেকেই নিজের production house করার কথা মাথায় আসে এবং আমরা শুরুও করে ফেলি। আমার মধ্যে এক সুপ্ত entrepreneur আছে; কোন কিছু lead করা, control করা এই ব্যাপারটা আমার ভালো লাগে। হতে পারে যে dominance আমাকে আকর্ষণ করে, আমি dominate করতে ভালোবাসি, আর সেটাই production house তৈরি করতে আমাকে উৎসাহিত করেছে। ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয় যে আমার মধ্যে একটা maleness আছে, যেটা এই পুরো বিষয়টায় আমাকে সাহায্য করেছে। আর আমার partner প্রচুর সাহায্য করেছে এবং করছে – ওর experience আর ideas দুটোই খুব প্রয়োজন এগিয়ে যাওয়ার জন্যে। মূলত Short Television Films প্রোডিউস করছি আমরা, এছাড়াও Ad Films, Corporate Films নিয়ে কাজ চলছে। যাই করি না কেন, খুব ভালো ভাবে করার চেষ্টা করব, এটা বলতে পারি।

৯. আপনার ছোটবেলা সম্পর্কে কিছু বলুন

আমার শৈশব একদমই আনন্দের নয়। আমার যখন পাঁচ বছর বয়স তখন আমি মা’কে হারাই। তখনকার একজন নামী surgeon-এর কাছে খুবই ছোট একটি operation-এর পরে, ভুল চিকিৎসার জন্যে মা’র মৃত্যু হয়। তাই বাবাই আমাকে মানুষ করেছেন। আমাদের যৌথ পরিবার ছিল বলে বাড়িতে কাকা, জেঠু, কাকিমা, জেঠিমা, পিসি আরো অনেক লোকজন ছিলেন চারপাশে। প্রচুর ব্যস্ততা সত্ত্বেও বাবা আমাকে অনেক সময় দিতেন। তবে মায়ের জায়গা কেউ কখনও নিতে পারে না। বাড়িতে মাতৃস্থানীয়া অন্য যারা ছিলেন, তাঁরাও আমার দেখাশোনা করতেন, কিন্তু ওই যা বললাম, মা চলে যাওয়ার পরে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল সেটা কেউ পূরণ করতে পারেন না। তাই আমি যেখানেই যেতাম মায়ের মতো কোন একজনকে খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করতাম। আমি স্কুল যেতে খুব ভালোবাসতাম, বেথুন স্কুলে পড়তাম।

১০. “Bold” এই শব্দটিকে আপনি কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

অনেকেই মনে করে যে সিনেমায় ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করা, খোলামেলা পোশাক পরা হল Boldness – কিন্তু আমার তা মনে হয় না। যেমন “রঞ্জনা আমি আর আসব না” ফিল্মে আমার কোন ঘনিষ্ঠ দৃশ্য ছিল না, কিন্তু আমি যে চরিত্রে অভিনয় করি, দীপান্বিতা, একজন জার্নালিস্ট, সে নিজে খুব bold চরিত্র হিসেবে। আমার মনে হয়, এটাই হল Boldness অভিনয়ের ক্ষেত্রে। কোন চরিত্র বা গল্পের খাতিরে যদি ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করতে হয়, সেটা তো খুব স্বাভাবিক ভাবেই আসে, কিন্তু তাছাড়াও কোন সাহসী চরিত্রকে ঠিকমতো ফুটিয়ে তোলাটাও Boldness আর সেটাই আমাকে বেশি আকর্ষণ করে।

১১. আপনার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে কিছু বলুন

অনেকেই হয়তো জানেন না যে আমি শিক্ষকতা করি, আমি দক্ষিণ কলকাতার একটি কলেজে ইকনমিক্স পড়াই। আমি ইকনমিক্সে মাস্টার্স করেছি আর Mphil করেছি Women’s Studies-এ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এখন আমি Women’s Studies-এ PhD করছি তবে মনে হয় আমি PhD শেষ করে উঠতে পারব না কারণ তার জন্যে যতটা সময় দেওয়া দরকার সেটা আমি দিতে পারছি না। তবুও আমি চেষ্টা করছি, এখনও হাল ছাড়িনি। অভিনয়ের পাশাপাশি শিক্ষকতা করে চলেছি আমার বাবাকে খুশি করার জন্যে। বাবা কোন ভাবে এখনও ঠিক মেনে নিতে পারেননি যে আমি বাকি জীবনটা অভিনয় করেই কাটাব। তাই আমি পড়ানো শুরু করি আর এখন দেখছি সেটা বেশ ভালোই লাগছে।

১২. প্রথম প্রেম বা প্রথম কোন মানুষকে ভালো লাগার অভিজ্ঞতা আছে?

ওরে বাবা! সে আছে। যখন আমি ক্লাস সেভেনে পড়ি, তখন আমার মায়ের এক বন্ধুর ছেলেকে খুব ভালো লেগেছিল, teenage crush যাকে বলে আর কি। ছেলেটিও নানা ভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেছিল, কিন্তু বাবা’র ভয়ে আমি তাকে আর কিছু বলে উঠতে পারিনি।

আমি long distance relationship-এ একেবারেই স্বচ্ছন্দ নই। যখন St. Xavier’s-এ পড়ি, তখন আমারই এক বান্ধবী JU-এর একটি ছেলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু তারপরেই আমার সেই বান্ধবীও এই ছেলেটির প্রেমে পড়ে যায়। সেই সঙ্গে এক বোকা বোকা love triangle তৈরী হয় আর শুরু হয়ে যায় এক melodrama – তার কিছুদিনের মধ্যেই সেই ছেলেটি M.Tech করতে IIT চলে যায় আর আমিও সব যোগাযোগ বন্ধ করে দিই। তার পরেও Masters করার সময় আমি আবার একজনের প্রেমে পড়ি, কিন্তু যেই সে PhD করতে US চলে গেল, আমি সেই সম্পর্ক থেকে সরে আসি। আসলে আমি long distance relationship-এ একেবারেই স্বচ্ছন্দ নই।

শেষ পর্যন্ত আমি আমার বর্তমান fiancé-এর সঙ্গে settle করেছি।

১৩. কোন ধরণের ঘটনা বা পরিস্থিতে hypersensitive হয়ে পড়েন কী?

হ্যাঁ, আমি খুবই hypersensitive, যদিও আমি সেটা প্রকাশ করতে চাই না। যেমন, আমি রান্না করতে পারি না, কেউ যখন সেটা নিয়ে taunt করে, আমি খুব রেগে যাই কারণ আমি রান্না করতে পারি না আর ভালোও বাসি না। আর আমি একদমই গোছানে নই আর সেই সঙ্গে খুব ভুলোও। সেটা নিয়েও কেউ কিছু বললে আমি খুব রেগে যাই। আমি অনেক কিছুই করতে পারি, তাই রান্না না করতে পারলে বা সংসারী না হলে এমন কী এসে গেল? আমার fiancé খুব ভালো রান্না করতে পারে, সবাই জানে ওই আমাকে রান্না করে খাওয়ায় (হাসি)। জীবনের এক মস্ত সমস্যার সমাধান হয়ে গেল!

১৪. যখন ব্যোমকেশ সিনেমায় অফার পেলেন কীরকম লেগেছিল?

ওহ, ওটা তো আমার dream role! আমি ভীষণভাবে চাইতাম সত্যবতীর চরিত্রে অভিনয় করতে। অঞ্জন দত্ত’র প্রথম ব্যোমকেশের ছবিতে একটি ছোট্ট role ছিল, শুধু একটা phone cut, ব্যাস। অঞ্জন’দা আগেই বলেছিলেন যে, সিনেমাতে সত্যবতীর খুব বড়ো role থাকবে না, তবুও আমি কাজ’টা করি, কারণ সত্যবতীর চরিত্রটি আমার ভীষণ পছন্দের। তখন থেকেই আমার মনে হতে লাগল যে হয়ত পরের কোন সিনেমায় সত্যবতী’র আরও বেশি ভূমিকা থাকবে। তারপর তো চিত্রচোর, কহেন কবি কালিদাস হল আর আমি মনের আনন্দে সত্যবতী’র চরিত্রে কাজ করলাম।

১৫. আপনার কী মনে হয় যে যোগ্য কাজ করার সুযোগ আপনার আসেনি এখনও?

অবশ্যই মনে হয়। আমি হিন্দি ছবিতে কাজ করতে চাই, হতে পারে অনুরাগ কাশ্যপ-এর ছবিতে। সেরকম কোন সুযোগ এখনও আসেনি। এমন নয় যে আমি নায়িকার চরিত্র চাইছি, একটা ঠিক ঠাক role যেখানে অভিনয় করার যথার্থ সুযোগ রয়েছে, এমন কোন হিন্দি ছবিতে কাজ করতে চাই। আমি এখনও সৃজিতের সঙ্গে কাজ করিনি, আমি ঋতু দা’র সঙ্গে কাজ করতে চাইতাম, সেটা তো আর হলই না – এরকম কিছু না-পাওয়া রয়েছে। আমার মনে হয় আমি লেডি ব্যোমকেশ বা লেডি ফেলুদা, মানে লেডি ডিটেক্টিভ চরিত্রে খুব ভালো কাজ করতে পারব। BBC’র “The Fall” সিরিজের Mrs Gibson আমার স্বপ্নের চরিত্র। It’s “Power” to me.

১৬. শেষ প্রশ্ন! বিয়ে করছেন কবে?

আমার মনে হয় বিয়ে করা উচিত হবে না। সত্যি, আমি আমার fiancé-এর সঙ্গে live-in করতে পারি, কিন্তু বিয়ে করব না। এই ব্যাপারে আমরা দুজনেই একমত। আমার মনে হয়, বিয়ে ব্যাপারটা আমার ক্ষেত্রে ঠিক খাটবে না, live-in relationship চলতে পারে। অনেকেই বিয়ে করে বেশ সুখে থাকে, কিন্তু আমার মধ্যে ওই বিয়ে, বউ ব্যাপারটা নেই। আমি খুব ভালো girlfriend, কিন্তু আমি ভালো wife হতে পারব না হয়ত, কারণ আমি নিজেকে খুব ভালোবাসি। একজন ভালো মা হতে গেলে যা কিছু করতে হয়, যতটা ত্যাগ স্বীকার করতে হয়, সেটা আমি করতে পারব না, তাই আমি ভালো মা হতেও পারব না। আমি ছোট ছেলেমেয়েদের খুব ভালোবাসি, হয়ত কখন adopt করতে পারি, কিন্তু আমি ভালো মা হব কি না, সে ব্যাপারে আমি একেবারেই নিশ্চিত নই। নিজের সন্তান পৃথিবীতে নিয়ে আসা, এই ব্যাপারটাই খুব কঠিন মনে হয় আমার।